বিতর্কিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান চীনের
July 19, 2017 Ice COOL
১৯ জুলাই ২০১৭
চীনা বাহিনী ওই অঞ্চলে সম্প্রতি অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীন ভারতের প্রতি এ আহ্বান জানাল। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, ‘পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে’ ভারতীয় বাহিনীকে এ এলাকা ছাড়তে হবে। গতকাল মঙ্গলবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি যে আমরা আশা করি ভারতীয় পক্ষ পরিস্থিতি পরিষ্কার বুঝতে পারবে এবং তাদের সেনারা যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে, তাদের প্রত্যাহারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে।’
বেইজিং ও নয়াদিল্লি এক মাসের বেশি সময় ধরে একে অপরকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে আসছে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা বলে আসছেন, যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের চেয়েও রক্তক্ষয়ী হতে পারে। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধে কয়েক হাজার লোক নিহত হয়।
গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তিব্বতে শত্রুপক্ষের অবস্থানের ওপর আঘাত হানতে চীনের সেনা ব্রিগেড অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে। তবে ঠিক কোন জায়গায় এবং কোন সময়ে ওই মহড়া চালানো হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তিব্বতের সর্ব দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চল দোকা লা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মিত্র ভুটানের দাবি, ওই অঞ্চলটি তাদের।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ উন্নয়শীল বড় দেশ নিয়ে গড়ে ওঠা সংস্থা ব্রিকসের নিরাপত্তা ফোরামে অংশ নিতে ২৭-২৮ জুলাই বেইজিং সফর করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেখানে এই সংকট নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে চীন বলেছে, সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
ভারত ও চীনের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম বিরোধের সূত্রপাত হয় দোকা লা অঞ্চলে চীন একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করার পর। এই মালভূমি অঞ্চলটি ভুটান ও চীন দুই দেশেই তাদের বলে দাবি করে থাকে।
যদিও চীন ও ভুটান কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কয়েক দশক ধরে দোকা লা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ভুটান এ বিষয়ে নয়াদিল্লির সাহায্য চাইলে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম থেকে সেখানে সেনা পাঠায়। এর জবাবে চীন তিব্বতে হিন্দু ও বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান কৈলাস পর্বতে ভারতীয় পুণ্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দোকা লা মালভূমির মালিকানা যে তাদের, তার প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিক নথি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে।
দোকা লা অঞ্চলটি ভারতের অংশ নয়। তবে সেখানে কৌশলগত গুরুত্বের অংশ হিসেবে দিল্লি ওই অঞ্চলে চীনের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়কে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচনা করে।

0 comments:
Post a Comment