Search This Blog

Featured Post

রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে যেভাবে...

ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরেছে জাতীয় রাজস...

Powered by Blogger.

BTemplates.com

Sunday, July 30, 2017

রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে যেভাবে...



ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন খাত থেকে ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার সংস্থান হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ২০ কোটি টাকা।
আজ রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এনবিআরের অর্থায়নের নতুন পরিকল্পনায় দেখা গেছে, ঘাটতি পূরণে সিগারেট ও বিড়ি খাত থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক হিসাব ও বিমানের টিকিটে আবগারি শুল্ক থেকে ৫০০ কোটি টাকা, ফাস্ট ফুডের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থেকে ১০০ কোটি টাকাসহ মোট ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় মনিটরিং জোরদারসহ এডিআর ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আহরণ ও কর প্রতিপালন বাড়ানোর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির কারণে ৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ প্রাক্কলন করা হয়েছে। সবমিলে ঘাটতি দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটের বড় মামলাগুলো নিষ্পত্তি এবং নিরঙ্কুশ বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের পরিকল্পনায় বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোবাংলার কাছ থেকে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আছে। এই বকেয়া পরিশোধে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইস ব্যাংকসহ বিদেশের অন্যান্য ব্যাংকে অর্থ পাচার নিয়ে এবং অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত সর্বশেষ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, সুইস ব্যাংকে টাকা পাচারের সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অবস্থান তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য ব্যাংকিং লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং সেক্টরে জমার পরিমাণ কমেছে।
বিএফআইইউর পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, তাদের কাছে সংরক্ষিত অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে অভিযুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য সুইজারল্যান্ড এআইইউ-কে এগমন্ট সিকিউর ওয়েবের মাধ্যমে ১৩ জুলাই অনুরোধ করেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অনিয়মের দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনা, পর্যাপ্ত জামানত সংরক্ষণ ও ঋণ বিতরণ-পরবর্তী মনিটরিংয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ব্যাংকটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরিত অর্থ উদ্ধারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তদন্ত করে দ্রুত কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কমিটি সদস্য মো. আবদুল ওয়াদুদ, নাজমুল হাসান, ফরহাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মো. শওকত চৌধুরী ও আখতার জাহান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ার কারণে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণের উদ্দেশ্যে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া আদায়ের মাধ্যমে পূরণ করার সুপারিশ করা হয়।
আরও সংবাদ

জান্নাতুলের জয় ও অনিশ্চয়তা...



মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল মদিনা। ছবিটি আজ রোববার সৈয়দপুর প্রেসক্লাব থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলোখাবার ঠিকমতো না জুটলেও মেয়ের পড়ালেখা সবার আগে। মেয়ে জান্নাতুল মদিনা এবার উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কিন্তু এ মাসেই বাবা মিজানুর রহমানের নৈশপ্রহরীর চাকরি শেষ হয়ে যাবে। এত দিন টেনেটুনে চললেও উচ্চশিক্ষায় যে খরচ অনেক। কোনো দিক ভেবে কূল পাচ্ছেন না এই বাবা। 
জান্নাতুল মদিনা এবার নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এসএসসিতেও একই ফল ছিল। পরিবারের টানাপোড়েনের মধ্যেও মেধাবী এই শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছাড়েননি। শহরের ইসলামবাগ মহল্লায় রেলওয়ের একখণ্ড জমিতে ছাপরা ঘরে তাঁদের বসবাস। বাবা মিজানুর রহমান রেলওয়ের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ মাসেই বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে মিজানুরের চাকরিও শেষ হবে। মা নাজমুন নাহার বাসায় কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। 

আজ রোববার মিজানুর মেয়েকে নিয়ে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে আসেন। শোনান নিজের অসহায়ত্বের কথা। পরে প্রথম আলোর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এত দিন মানুষের সাহায্য নিয়ে পড়ায়েছি। খাই না খাই পড়া চালিয়ে গিয়েছি। কিন্তু এখন বাইরে পড়ানোর সামর্থ্য নাই। টাকাপয়সা না থাকলেও কেমন করে চালাব।’ তবে মেয়ের পড়াশোনা থেমে যাবে কি না, জিজ্ঞেস করলে তিনি ভাগ্যের কথা বলেন। 

জান্নাতুলের কলেজ তাঁকে বিনা পয়সাতেই পড়িয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিচিতরা স্কুলে ফ্রি পড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। টিচাররা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। প্রাইভেট পড়াতেও টাকা নেননি।’ তিনি বলেন, পড়াশোনায় মা-বাবার ভীষণ উৎসাহ। তাঁর নিজের ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা। বাসাতেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংসারে অভাব থাকলেও মা-বাবা চিন্তা করতে দেননি। কিন্তু একদিন পরেই বাবা বেকার হয়ে যাবেন। সামনে পড়ার খরচও অনেক। চিন্তা তো এসেই যায়। 

জান্নাতুল একসময় প্রাইভেট পড়াতেন। পড়ার চাপ বাড়ায় তা ছেড়ে দিয়েছেন। অবসর সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অবসর পাই না। পড়ার ফাঁকে যে সময় পাই, মাকে সাহায্য করি। আমি কাপড় কাটি, মা সেলাই করেন।’
সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি অনেক মেধাবী। এত দিন তাঁর পাশে আমরাই ছিলাম। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় অনেক খরচ।’ তিনি বলেন, যদি কোনো বিত্তবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো জান্নাতুল পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।

এনামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে



আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলাক্রসফায়ার নিয়ে সাভারের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এনামুর রহমান গণমাধ্যমে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। আজ রোববার এ কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। 
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাভারের এমপির একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার নিয়ে কথা উঠেছে। সেখানে তাঁর অসামঞ্জস্য বক্তব্য উঠে এসেছে। এটা সিরিয়াসলি খতিয়ে দেখছি। সেটা প্রমাণিত হলে শোকজ করব।’ 
সংবাদ সম্মেলনের আগে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস সাংসদ এনামুরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শিশুতোষ। তিনি অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। 
জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সাভারে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নেই, এটা ঠিক। তবে সাংসদ এনাম যে কথা বলেছেন, তা তা ঠিক করেননি তিনি। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
১৮ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য এনামুর রহমান বলেন, ‘সাভারে অনেক ক্যাডার আর মাস্তান ছিল। এখন সব পানি হয়ে গেছে। কারও টুঁ শব্দ করার সাহস নেই। পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি। সব ঠান্ডা। লিস্ট করার পর যে দু-একজন ছিল, তারা আমার পা ধরে বলেছে, আমাকে জানে মাইরেন না, আমরা ভালো হয়ে যাব।’ অবশ্য পরে সাংসদ এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। 
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে আওয়ামী লীগের সমাবেশ করার জন্য পরীক্ষার স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি ওবায়দুল কাদের নিজেই তোলেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষার স্থান পরিবর্তন করে সমাবেশ করার রাজনীতি তিনি বিশ্বাস করেন না। যাঁরা এই আয়োজন করেছেন, তাঁরা ঠিক করেননি। পরীক্ষার হলের আশপাশেই সমাবেশ হওয়া উচিত নয়। 
এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয় প্রধানের এই মনোভাব জেনে তিনি সমাবেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর গাজীপুর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এসে কান্নাকাটি করেছেন যে এ আয়োজনের জন্য তাঁদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। 
গত শনিবার নবগঠিত গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ওবায়দুল কাদেরের। আগে থেকেই এই কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার কেন্দ্র ঠিক করা ছিল। সমাবেশের কারণে পরীক্ষার স্থান পরিবর্তন করা হয়। 
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাদের জানান, গত বছর অক্টোবরে কেন্দ্রীয় কমিটি হলেও প্রায় সব নেতাই দলীয় চাঁদা পরিশোধ করেননি। দ্রুত চাঁদা পরিশোধের তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলোর সদস্যদের নামের তালিকা আজ রোববারের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন। 
সংবাদ সম্মেলনে আরও যা বললেন
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, শোকাবহ আগস্টে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের ব্যাপারে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 
আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনে দলের হিসাব দেওয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে কাজ করে হিসাব সম্পন্ন করেছি। এই হিসাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেছি। আগামীকাল আমরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের কাছে জমা দেব।’ 
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ষড়যন্ত্রের চোরাবালি খুঁজছে। লন্ডনে তাঁরা (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) কী করছে, তার খোঁজখবর আমরা নিচ্ছি। সরকারি ও দলীয়ভাবে আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিচ্ছি।

ঝর্ণা রানীর ছেলেকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী



ঝর্ণা রানীর বড় ছেলে বাসুদেবের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলাকিশোরগঞ্জে শোলাকিয়ায় গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন পুলিশ-জঙ্গি পাল্টাপাল্টি গুলিতে নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের (৪৪) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঝর্ণা রানীর বড় ছেলে বাসুদেব ভৌমিককে চাকরি দিয়েছেন তিনি। বাসুদেব তেজগাঁও মহিলা কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষক ছিলেন।
আজ রোববার ঝর্ণার স্বামী ও দুই ছেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর কার্যালয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের খোঁজখবর নেন ও বাসুদেবের হাতে বেসরকারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সহকারী অফিসার পদের নিয়োগপত্র তুলে দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বামী ও দুই ছেলে নিয়ে ছিল ঝর্ণা রানী ভৌমিকের সুখের সংসার। স্বামী গৌরাঙ্গ নাথ ভৌমিক স্থানীয় একটি কারখানার কর্মচারী। বড় ছেলে বাসুদেব একটি কলেজে খণ্ডকালীন প্রভাষক। আর ছোট ছেলে শুভদেব স্থানীয় আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। গত বছর ঈদুল ফিতরের দিন জঙ্গিদের বুলেট ঝর্ণা রানীর প্রাণ কেড়ে নেয়। শোয়ার ঘরের ভেতরেই মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ঝর্ণা। এ মৃত্যু স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো পরিবারকেই।

মেহেরপুরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা




মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ধলা গ্রামে এনামুল হক (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আজ রোববার ভোররাত চারটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এনামুল কাথুলী ৭ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আজমাইল হোসেনের ছোট ভাই।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে গাংনীর নওয়াপাড়া গ্রামে বিয়ের দাওয়াত থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন এনামুল। ঈদগাহসংলগ্ন হাজির বাগানের কাছে সশস্ত্র কয়েকজন তাঁকে থামায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এনামুলকে কুপিয়ে জখম করে তারা। এনামুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক মাস আগে থেকে আজমাইল হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য আতিয়ারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনিদের ধরতে তদন্ত চলছে।

বর্বরতা ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রী ধর্ষণ


বগুড়ায় নির্যাতনের পর মা–মেয়ের মাথা ন্যাড়া করা হয়। শ্রমিক লীগ নেতা তুফান ও তিন সহযোগী গ্রেপ্তার
ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া (বাঁ থেকে) বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার, তাঁর সহযোগী রুপম, আলী আজম ও আতিকুর রহমান l ছবি: প্রথম আলোবাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। বগুড়ার এই প্রভাবশালী নেতা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হননি, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দলীয় ক্যাডার ও এক নারী কাউন্সিলরকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পেছনে লেলিয়ে দেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁরা কিশোরী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কিশোরী ও তার মায়ের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এর পেছনে যত বড় রাঘববোয়ালই থাকুক না কেন, কেউ রক্ষা পাবে না।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তাঁর স্ত্রী আশা সরকার, আশা সরকারের বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই শ্রমিক নেতা তুফান সরকার, তাঁর সহযোগী শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপট্টির আলী আজম ওরফে ডিপু, খান্দার এলাকার আতিকুর রহমান এবং কালীতলা এলাকার রূপমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নারী কাউন্সিলর ও তাঁর মা-বোন আত্মগোপন করেছেন। আর অসুস্থ মা-মেয়েকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোতালেব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির শরীরের সাত-আট স্থানে রড বা লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন সে শঙ্কামুক্ত। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে গতকাল সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বগুড়ার জেলা পুলিশের মুখপাত্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুফান সরকার মেয়েটিকে কলেজে ভর্তির কথা বলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছেন বলে স্বীকার করেন। এরপর তাঁর সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করা আতিকুর রহমান গতকাল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী ও পুলিশ জানায়, বগুড়া শহরের একটি বিদ্যালয় থেকে মেয়েটি এ বছর এসএসসি পাস করে। তার বাবা গ্রামীণ বাজারে সামান্য পুঁজির ব্যবসা করেন। আর মা ঢাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। এত দিন মেয়েটি বগুড়া শহরে নানিবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তবে কিছুদিন আগে মা বগুড়ায় ফিরে গেলে সে তার মা-বাবার সঙ্গে থাকতে শুরু করে।নির্যাতনের শিকার মা ও মেয়ে l ছবি: প্রথম আলো
ঘটনার শিকার কিশোরী জানায়, মাস দেড়েক আগে সে রিকশায় চড়ে যাচ্ছিল। পথে চকযাদু ক্রস লেনে শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রিকশা থামান তাঁর সহযোগী আলী আজম। তিনি মেয়েটির মুঠোফোন নম্বর চান। সে একটি ভুয়া নম্বর দিয়ে চলে যায়। সপ্তাহখানেক পর তার নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেন তুফান সরকার। নানা জিজ্ঞাসার একপর্যায়ে মেয়েটি বলে, তাকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তির সব ব্যবস্থা করে দেবেন। এ জন্য এসএসসি পাসের কাগজপত্রসহ চার হাজার টাকা দিতে বলেন। কথামতো সে তুফানের সহযোগী আলী আজমের হাতে টাকাসহ কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয়।
মেয়েটি আরও জানায়, ১৭ জুলাইতুফান সরকার তাকে ফোন দেন। তখন তুফান তাকে বলেন, ‘ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি, তুমি বাসায় এসে কাগজপত্র নিয়ে যাও।’ কিন্তু সে বাসায় যেতে রাজি হয়নি। এরপর তুফান সরকার তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ি পাঠিয়ে মেয়েটিকে নিজের বাসায় তুলে নিয়ে যান। এ সময় বাসায় তুফানের স্ত্রী ছিলেন না। সেখানে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি ধর্ষণ করেন। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তুফান তাঁর ক্যাডার আতিকুর রহমানকে ওষুধ কিনে দিতে বলেন। আতিকুর স্থানীয় দোকান থেকে ওষুধ কিনে দিয়ে তাকে বাসায় পৌঁছে দেন। আর ধর্ষণের বিষয়টি ফাঁস না করার জন্য ভয় দেখানো হয়।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তৎপর হয়ে ওঠেন তুফানের স্ত্রী আশা সরকার ও স্ত্রীর বড় বোন পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার। গত শুক্রবার বিকেলে তাঁরা ৮-১০ জন ক্যাডার পাঠিয়ে ওই কিশোরী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে আনেন। প্রথমে মার্জিয়া নিজে এবং পরে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার ও শাশুড়ি রুমি বেগম মা-মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর তুফানের তিন সহযোগী তাঁদের বেধড়ক মারধর করেন। প্রায় চার ঘণ্টা চলে এই নির্যাতন। এরপর তাঁরা নিজেরা এবং পরে নাপিত ডেকে দুজনের মাথা ন্যাড়া করে দেন। পরে সাদা কাগজে সই নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া ছেড়ে চলে যেতে বলেন। না গেলে অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেবেন বলে হুমকি দেন। তাঁরা সেখান থেকে চলে আসার পর স্থানীয় এক প্রতিবেশী অসুস্থ মা-মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপরই সব জানাজানি হয়।
গতকাল সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘অনেক আকুতি-মিনতি করেছি। পায়ে ধরে মাফ চেয়েছি। তারপরও রক্ষা পাইনি।’
জানতে চাইলে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আছাদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ব্যক্তিগতভাবে আমি বিব্রত। এ ধরনের ঘটনা যদি আমার নিজের কেউ ঘটাত, তারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইতাম, এখনো চাই। সহযোগী সংগঠনের একজন নেতার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যাঁরা তুফান সরকারের মতো ব্যক্তিকে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদ দেন, এ ঘটনার জন্য তাঁরাও কম দায়ী নন।’
আরও সংবাদ

সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের ইতালি যাত্রা ৯৮% লিবিয়ায় ছিল!



ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৩১। আর এ বছর প্রথম পাঁচ মাসেই গেছে ৭ হাজার ১০৬ জন, যা ইতালিতে মোট অবৈধ প্রবেশকারীদের ১১ শতাংশ। বাংলাদেশিদের এভাবে দেশত্যাগের জন্য আর্থিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরদাতাদের ৯৮ শতাংশ বলেছে, ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারা এক বছরের বেশি সময় লিবিয়ায় ছিল। তাদের অধিকাংশই অবিবাহিত পুরুষ।

কেবল ইতালিই নয়, এ বছর সাগরপথে অবৈধভাবে যত লোক ইউরোপে প্রবেশ করেছে, বাংলাদেশ সেই তালিকার অন্যতম। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশে মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তীর জঙ্গলে বেশ কিছু গণকবর আবিষ্কার হয়। তখন সাগরপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ২০১৪-১৫ সালে এই পথে প্রায় ৯৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গেছে। অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, মারাও গেছে। তারা কাজের সন্ধানে বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে দেশ ছেড়েছিল।

বাংলদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫-১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ।

থাইল্যান্ড সরকার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর বঙ্গোপসাগর দিয়ে মানব পাচার আপাতত বন্ধ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এমন বিপজ্জনক পথে বাংলাদেশিদের ইউরোপে পাচার শুরু হয় অনেক আগে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাস বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯৩ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে।

আজ ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল ঢাকায় ব্র্যাক আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মানব পাচারের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। পাচারের সঙ্গে জড়িত ‘গডফাদারদের’ তালিকা করে তাদের ধরতে হবে।

অবৈধভাবে ইউরোপে যাত্রার আগে বাংলাদেশিরা সাধারণত আকাশপথে দুবাই-ইস্তাম্বুল-ত্রিপোলি, দুবাই-কায়রো-খার্তুম-ত্রিপোলি কিংবা দুবাই-ইস্তাম্বুল-তিউনিস হয়ে লিবিয়ায় যায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় দুবাই বা ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া রুট। এরপর লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গাদাগাদি করে ইতালির উপকূলের উদ্দেশে যাত্রা করে।

১৭ জুলাই ইতালির রোমে জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) কো-অর্ডিনেশন অফিস ফর দ্য মেডিটেরিনিয়ানের পরিচালক ফেদেরিকো সোডার সঙ্গে তাঁর দপ্তরে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশিরাই কেন এত বেশি হারে এই অবৈধ পথে আসছে, তা আমরা জানি না। এর রহস্য আমরাও বুঝতে চাই। কারণ আমরা মনে করি, বিশ্বের যেসব দেশ উদ্বাস্তু তৈরি করে, তেমন দেশ অবশ্যই বাংলাদেশ নয়।’
ইতালিতে আইওএমের দপ্তর ২০১৬ ও ২০১৭ সালের মধ্যে ৬১৯ জন বাংলাদেশির তাদের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং মেট্রিকসের (ডিটিএম) আওতায় সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের সবাই পুরুষ। ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী অভিবাসী শিশু-কিশোরের সংখ্যা ২০১৬ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ, যা চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬ সালের জুনে আইওএমের আওতায় ডিটিএমের কাজ শুরু হয়। ভূমধ্যসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের ওপর গবেষণা করা তার কাজ। এটি এ পর্যন্ত ইতালির ছয়টি অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। ১৪ বছরের বেশি বয়সী যারা ২০১৬ থেকে ইতালিতে পৌঁছেছে, তাদেরই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সোডা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে দিয়েই প্রথম কাজ শুরু করি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের ওপরও এ রকম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
আইওএমের সমীক্ষায় ২০১৬ ও ২০১৭ সালের উত্তরদাতাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ত্যাগ করার মূল কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক বিবেচনাকে চিহ্নিত করেছে। ২০১৭ সালের উত্তরদাতাদের প্রশ্নমালায় দেশত্যাগের কারণ হিসেবে একাধিক বিকল্প উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯৫ শতাংশ শিশু (যাদের গড় বয়স ১৭) দেশত্যাগের কারণ হিসেবে আর্থিক সংকটকে চিহ্নিত করে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ৩০ শতাংশ এবং শিশুদের ২৮ শতাংশ ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া ১১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ শতাংশ শিশু জীবন ধারণের মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকার কথাও উল্লেখ করে। এ ছাড়া ৩২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দেশত্যাগের কারণ হিসেবে মানবিক সেবার অভাবকে চিহ্নিত করেন।
ওই সীমাক্ষা প্রতিবেদন বলছে, সমুদ্রপথে আসা বাংলাদেশি অভিবাসীদের বেশির ভাগ ইতালিতে থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। কারণ, তারা ইতালিকে নিরাপদ এবং আর্থসামাজিক সুবিধার দিক থেকে অনুকূল মনে করে। এ বছর ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ও ৯৭ শতাংশ শিশু ইতালিতে থাকতে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। খুব অল্পসংখ্যক উত্তরদাতা তাদের পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য বা জার্মানির কথা উল্লেখ করেছে।
২০১৬ সালে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৩১। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে সমুদ্রপথে ৭ হাজার ১০৬ জন বাংলাদেশি ইতালিতে এসেছে। এদের অধিকাংশই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। গত বছর যাঁদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৬ শতাংশ এবং শিশু ছিল ১৪ শতাংশ।
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সমুদ্রপথে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৬ জন ইতালিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অন্যান্য দেশের ২৪ হাজারের বেশি নারী থাকলেও বাংলাদেশের নারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫। এ ছাড়া অভিভাবকহীন শিশুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৩। এ বছর প্রথম ৫ মাসে ৬০ হাজার ২২৮ জন বিদেশি সমুদ্রপথে ইতালিতে এসেছে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ বাংলাদেশি এবং অভিভাবকহীন শিশুর সংখ্যা ১৪ শতাংশের বেশি।
ঢাকারই বেশি
ইতালিতে আসা অধিকাংশ বাংলাদেশি অভিবাসীর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক। শিশুদের গড় বয়স ১৭ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ২৫। সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছে, তারা এসেছে ঢাকা থেকে। ৭ শতাংশ বৃহত্তর ঢাকার। অন্য এলাকার মধ্যে রয়েছে সিলেট, মাদারীপুর ও চট্টগ্রাম। এদের অর্ধেক ইতালিতে আসার আগে কর্মরত ছিল। ৩৮ শতাংশ বলেছে, তারা বেকার ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উত্তরদাতাদের ৯৮ শতাংশ বলেছে, ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারা এক বছরের বেশি সময় লিবিয়ায় ছিল। সেখানে তারা প্রধানত গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মালি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। লিবিয়ায় পৌঁছার পরপরই পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং হোটেল বা বাসাবাড়িতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্তরীণ রাখা বা কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে পৌঁছাতে তাদের খরচ হয়েছে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের (চার লাখ টাকা) বেশি। এরা বিমানযোগে দুবাই বা ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগে কোনো বাংলাদেশি দালালকে সমুদয় টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে। ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, তাদের ইতালিতে আসার খরচ আত্মীয়রা জুগিয়েছেন।
সোডা মনে করেন, শুধু লিবিয়ায় পৌঁছাতেই প্রত্যেক অভিবাসীর ৮ থেকে ৯ হাজার ডলার খরচ হয়। লিবিয়া থেকে ইতালিতে আসার খরচ অবশ্য মাথাপিছু ৭০০ ডলার। অভিবাসীরা তাদের যাত্রার শুরুতেই পুরো টাকা দেয় না। মানব পাচারকারীরা পরিবারের প্রধানের সই করা ‘ব্ল্যাংক চেক’ নেন। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ করতে পরিবারের প্রধান সম্পদ বন্ধক দেন বা ঋণ করেন। এরপর তাঁরা বুঝতে পারেন, চাকরি নেই, তাঁরা ফাঁদে পড়েছেন।
সোডা মানব পাচারকারীদের অর্থ পরিশোধের আরেকটি বিকল্পের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর কথায়, মানব পাচারকারীরা ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এই ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে সস্তা খেলনা বা গোলাপ বিক্রির মতো কাজের সংস্থান করেন। এরপর এজেন্টরা প্রতিশ্রুত টাকা উশুল করেন।
ইতালি সরকারের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইওএম রোমের অদূরে লাপান্তো এলাকায় ভূমধ্যসাগর দিয়ে প্রবেশকারী উদ্বাস্তুদের বিষয়ে নজরদারি করতে একটি সমন্বয় দপ্তর খুলেছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকা কোনো পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশিদের জন্য ইইউ ভিসা সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার। ইতালির প্রধানমন্ত্রী পাবলো জেন্তিলনিকে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক চিঠিতে জাঙ্কার ওই হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে ভয়েস অব আমেরিকা বুধবার জানিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ‘সংবেদনশীল’ বিবেচনায় কোনো বক্তব্য দিতে চায়নি।

Wednesday, July 26, 2017

ইনস্টাগ্রামে ছবি দেওয়ার পরই আসছে বিয়ের প্রস্তাব



ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিতে চায় সবাই। কিন্তু কেউ কেউ আবার ছবি দিতে গিয়ে পড়েন বিপদে। তেমনি বিপদে পড়া একজন হলেন ব্রাজিলের হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা মারি। কাজের বাইরে তিনি আর কী কী করেন তারই কিছু ছবি তিনি দিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে। বিপত্তির শুরু সেখানেই। কারণ এরপরই তার কাছে আসতে থাকে প্রেমের প্রস্তাব; এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও।
ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ বলা হয়। দেশটিতে বছরে গড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়। সেখানকার নারী পুলিশ কর্মকর্তা মারি যে অনেকটা সাহসী তার কিছু ঝলক দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে। পুলিশ হওয়ার খুব একটা স্বপ্ন ছিল না মারির। কিন্তু নিজ গোত্রের মানুষদের অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচাতে বেছে নিয়েছেন এ পেশা।
৩০ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা মারি এরই মধ্যে ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে উঠেছেন। কিছুদিন আগেই পুলিশের পোশাকে নিজের কাজের ছবি পোস্ট করেছিলেন। কাজের বাইরে তিনি কীভাবে সময় কাটান, কী কী করেন, ছবিগুলো তা নিয়েই। এসব সেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা মাত্রই শুরু হয় উৎপাত। তার কাছে আসতে থাকে প্রেমের প্রস্তাব। কেউ কেউ দিয়ে বসেন বিয়ের প্রস্তাবও।

ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াচাকরির পরীক্ষাও ভালো ফল করেন মারি। দেড় লাখ চাকরি প্রার্থীর মধ্যে সেরা ১০-এ ছিলেন মারি। চাকরি পাওয়ার পর সন্ত্রাস, ট্রাক চুরি ও গ্যাং ক্রাইমের জন্য কুখ্যাত রিও ডি জেনেরিওর দার্তা হাইওয়ে এলাকায় পেস্টিং দেওয়া হয় মারিকে। অপরাধীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করাই তার কাজ। দুঃসাহসিক চাকরি বেশ উপভোগ করছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুন্দরী। কাজের বাইরে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে পছন্দ করেন তিনি। সম্প্রতি এমনই এক ভ্রমণে গিয়ে তোলেন কিছু খোলামেলা ছবি। আর সেই ছবি তুলে তা পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। সাহসিকতা আর সৌন্দর্যের কারণেই হয়তো তাঁকে অনেক বেশি পছন্দ করেন। আর এর জেরেই শতাধিক বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াঅপরাধ জগতের সঙ্গে ওঠাবসা তার। তাই ইনস্টাগ্রামে যে তার হাজারো অনুসারী হতে পারে তা প্রায় অবিশ্বাস্য লাগে মারির কাছে। তবে কাজের বাইরে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে পছন্দ করেন। নিজেকে ‘সমুদ্র সৈকতের লেডি’ মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মারি বলেন, ‘আমি যেখানে কাজ করি তা সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকা। তাই আমাদের সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। হাইওয়েতে লড়তে হয় চুরি, খুন, ধর্ষণ এবং অস্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে।’ তিনি বলেন, ঘুরে বেড়ানো ও ব্যায়ামের মাধ্যমে তার মন ও শরীরকে সুস্থ রাখতে পছন্দ করেন। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নেও এত দেরি?



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার চিঠিগত বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম দিবসের অনুষ্ঠানে তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান এবং চাকরির জন্য আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেন।

বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এই তিনজনের চাকরির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এক বছর চার মাস হতে চলল, সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নেই।

তিনজনের মধ্যে একজন ঝিনাইদহের বিপ্লব কুমারের প্রশ্ন, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন, তারপরও তা মানতে এত দেরি হবে? এই নির্দেশের বাস্তবায়ন হতে কেন এত সময় লাগবে?

বিপ্লব জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেওয়ার আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন। সেখানে পরীক্ষা দেন। কিন্তু পাস করতে পারেননি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আর কোনো কিছুর জন্য ডাক পাননি।

বিপ্লব কথা বলেন কিছুটা অস্পষ্টভাবে। হাতে এবং পায়ে সমস্যা থাকলেও একাই চলাচল করতে পারেন।

বিপ্লবসহ তিনজনের মধ্যে দুজন সেরিব্রাল পালসি এবং একজন বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী।

তিনজনের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য দুজন এখন পর্যন্ত জানেন না তাঁদের ভাগ্যে কী আছে। যিনি নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছিলেন, তিনি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি এবং তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর চাকরির আবেদনপত্রে বিপ্লব কুমার লিখেছেন, সেরিব্রাল পালসির কারণে স্নায়ু বিকাশে অনেক বাধা থাকলেও তিনি সব বাধা অতিক্রম করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেছেন। একটি চাকরির জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও চাকরি পাননি। তাঁর বাবা কৃষক। পরিবারও প্রতিবন্ধী বলে অবহেলা করে। সামাজিক অবহেলা ও আর্থিক সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী।
বিপ্লব প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনপত্রে লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ শেষ করার পর প্রতিবন্ধিতার কারণে চাকরি না পেলে আমাকে ভিক্ষাবৃত্তি করে খেতে হবে।’
বিপ্লব কুমার রাজধানীতে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী হোস্টেলে থাকছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব সবার কাছে ঘুরছি। সবাই শুধু বলেন, হবে। কিন্তু কবে হবে? আমার তো আর দিন চলে না।’
নূর এলাহী কথা বলতে পারেন না। তাঁর বড় বোন নিলুফার ইয়াসমিন জানান, নূর এলাহি ডিগ্রি পড়ছেন। বাড়ি টেকনাফে। এখন থাকছেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের হোস্টেলে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।
নিলুফার ইয়াসমিন ভাইয়ের পক্ষ থেকে বলেন, তাঁর ভাইও একটি চাকরির আশায় বসে আছেন। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন, তার ফলাফল পাবেনই। তবে সময়টা একটু বেশি লাগছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএস-২ নমিতা হালদার এক চিঠিতে এই তিনজনের চাকরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনজনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। গত বছরের ১২ মে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তা পাঠানো হয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর। তারপর থেকে বিষয়টিতে আর কোনো অগ্রগতি জানতে পারেননি বলে জানালেন ভুক্তভোগী দুজন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তবে সরকারি চাকরি পেতে হলে কিছু নিয়মনীতি অবশ্যই মানতে হবে। অধিদপ্তর চাইলেই কাউকে চাকরি দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষে বোর্ডের অনুমতি নিয়ে চাকরি দেওয়াটা তুলনামূলকভাবে সহজ।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জানালেন, তাঁরা আশায় পথ চেয়ে আছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন দ্রুত হবে এবং চাকরি নামক সোনার হরিণটির দেখা পাবেন তাঁরা।

‘বিরল রোগে’ আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু ইব্রাহীম


সাড়ে তিন বছরের মেয়ে হীরামনি মারা গেছে একই রোগে। আরেক মেয়ের  চিকিৎসা চলছে। ‘বিরল এই রোগে’ আক্রান্ত ছোট ছেলে ১২ মাসের ইব্রাহীম।
সাতক্ষীরা শহরের অদূরে মাগুরা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জয়নাল আবেদিনের ছেলে ইব্রাহীম। মাত্র ছয় মাস বয়সে রোগটি দেখা দেয়। প্রথমে গলায় ক্ষত, পরে কোমরে ও শেষে দেহের নিমাঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে শিশু ইব্রাহীমের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটি দিনরাত কেবলই কাঁদে। যন্ত্রণায় ছটফট করে। আক্রান্ত স্থানে পচন ধরেছে।
শিশুটির মা হাসিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছয় মাস বয়সে তার গলায় ক্ষত দেখা দেয়। এরপর ঢাকায় নিয়ে যাই। কোনো লাভ হয়নি। ভারতে চিকিৎসা করাতে যান। চিকিৎসকরা জানান, ৪০ লাখ টাকা লাগবে। সেখান থেকে ফিরে এসেছেন তাঁরা।
বাবা জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ছেলের পেছনে আমার সব অর্থসম্পদ চলে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। আমি আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত হৃদয়বান মানুষ। তিনি দেশের অনেক শিশুকে নিজ দায়িত্বে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমার ছেলের দায়িত্বও নেবেন তিনি।
ইব্রাহীমের বড় বোন হীরামনি জন্মের তিন মাস পর থেকে একই রোগে  আক্রান্ত হয়। তারও দেহে দেখা দেয় মারাত্মক ক্ষত। তার পেট ফুলে যেত। কিছুদিন পরে মারা যায় সে। একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার আরেক বোন খাদিজা আক্তার (১২)। তারও গলায় ঘা। ঢাকায় নিয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে।
রোগটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জি এম নাসিরউদ্দিন বলেন, এটি একটি বিরল রোগ। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ক্রনিক গ্রানুলোম্যাটাস ডিজিজ উইথ সেকেন্ডারি নিক্রোটাইসিং আলসার। তবে রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য শিশু ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা দরকার। এ রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে আছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীতে মানবপাচারের অভিযোগে আটক ৯


প্রতারণা ও মানবপাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার নাইজেরীয়সহ নয়জনকে আটক করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।
গতকাল বুধবার ওই নয়জনকে আটক করা হয়।
ডিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদেবার্তায় এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

Wednesday, July 19, 2017

বিতর্কিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান চীনের



ফাইল ছবি। ছবি: এএফপিহিমালয় পর্বতমালার বিতর্কিত অঞ্চলগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
চীনা বাহিনী ওই অঞ্চলে সম্প্রতি অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীন ভারতের প্রতি এ আহ্বান জানাল। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, ‘পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে’ ভারতীয় বাহিনীকে এ এলাকা ছাড়তে হবে। গতকাল মঙ্গলবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি যে আমরা আশা করি ভারতীয় পক্ষ পরিস্থিতি পরিষ্কার বুঝতে পারবে এবং তাদের সেনারা যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে, তাদের প্রত্যাহারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে।’
বেইজিং ও নয়াদিল্লি এক মাসের বেশি সময় ধরে একে অপরকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে আসছে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা বলে আসছেন, যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের চেয়েও রক্তক্ষয়ী হতে পারে। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধে কয়েক হাজার লোক নিহত হয়।
গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তিব্বতে শত্রুপক্ষের অবস্থানের ওপর আঘাত হানতে চীনের সেনা ব্রিগেড অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে। তবে ঠিক কোন জায়গায় এবং কোন সময়ে ওই মহড়া চালানো হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তিব্বতের সর্ব দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চল দোকা লা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মিত্র ভুটানের দাবি, ওই অঞ্চলটি তাদের।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ উন্নয়শীল বড় দেশ নিয়ে গড়ে ওঠা সংস্থা ব্রিকসের নিরাপত্তা ফোরামে অংশ নিতে ২৭-২৮ জুলাই বেইজিং সফর করবেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেখানে এই সংকট নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে চীন বলেছে, সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
ভারত ও চীনের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম বিরোধের সূত্রপাত হয় দোকা লা অঞ্চলে চীন একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করার পর। এই মালভূমি অঞ্চলটি ভুটান ও চীন দুই দেশেই তাদের বলে দাবি করে থাকে।
যদিও চীন ও ভুটান কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কয়েক দশক ধরে দোকা লা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ভুটান এ বিষয়ে নয়াদিল্লির সাহায্য চাইলে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম থেকে সেখানে সেনা পাঠায়। এর জবাবে চীন তিব্বতে হিন্দু ও বৌদ্ধদের পবিত্র স্থান কৈলাস পর্বতে ভারতীয় পুণ্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দোকা লা মালভূমির মালিকানা যে তাদের, তার প্রমাণ হিসেবে ঐতিহাসিক নথি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে।
দোকা লা অঞ্চলটি ভারতের অংশ নয়। তবে সেখানে কৌশলগত গুরুত্বের অংশ হিসেবে দিল্লি ওই অঞ্চলে চীনের স্থাপনা নির্মাণের বিষয়কে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচনা করে।

৮৬ বছর বয়সী রত্নচোর!



যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ বছর বয়সী একজন ক্রমিক রত্নচোরকে আবারও চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চাশের দশক থেকে ডরিস পেইন নামের ওই নারী বিভিন্ন সময়ে চুরির দায়ে সাজা ভোগ করেছেন।
গত সোমবার জর্জিয়ার চামবেলে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে ব্রেসলেট চুরির সময় পেইন ধরা পড়েন বলে বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে। তবে সেদিন তিনি মুচলেকা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়া পেলেও আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে গতকাল মঙ্গলবার আবার গ্রেপ্তার হন।
পুলিশ জানায়, ডরিস পেইন ওই দোকান থেকে ৮৬ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি করেছিলেন। ওই দোকানের একজন কর্মচারী তাঁকে বিভিন্ন পণ্য চুরি করতে দেখেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পেইনের আইনজীবী ড্রিউ ফিন্ডলিংয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অতীতে তাঁর সব চুরির চেয়ে এবারের চুরিটি একেবারে অন্য রকম। এবার আর তিনি গয়না বা রত্ন চুরি করেননি। ৮৬ বছর বয়সী একজন নারীর জীবনধারণের জন্য প্রতিদিন যেসব খাদ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত জিনিসপত্র প্রয়োজন হয়, এবার তিনি সেগুলোই নিয়েছিলেন।
কিছুদিন আগে পেইন আটলান্টা উপকণ্ঠে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে দুই হাজার ডলারের একটি হীরার হার চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তখন তাঁকে সাজা হিসেবে গৃহবন্দী করা হয় এবং নগরীর শপিং সেন্টারগুলোতে নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রেমের বিয়ের ছয় মাসেই লাশ হলো নিরমা


প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন জয়দেব ও নিরমা ওরফে লিমা (১৯)। কিন্তু ছয় মাস যেতে না-যেতেই লাশ হলেন নিরমা। গলায় ছিল ওড়নার ফাঁস। আর স্ত্রীর মরদেহের ওপর পড়ে ছিলেন স্বামী জয়দেব। তবে পরে জয়দেব নিজেই স্ত্রীকে হত্যা করেছেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার চিনিপাড়া এলাকার লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের পাশ থেকে নিরমার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিরমার বাবা জয়দেবকে আসামি করে মামলা করেন। সেদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ছয় মাস আগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার হিরামানিক গ্রামের জয়দেব বর্মণের সঙ্গে জেলা শহরের শুরকি মিল এলাকার নিমাই চন্দ্র রায়ের মেয়ে নিরমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নিরমাকে জয়দেব বিভিন্ন কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে ৭ জুলাই নিরমা সদর উপজেলার তিস্তায় তাঁর মামার বাড়িতে চলে যান। জয়দেব সেখানে গিয়েও নিরমাকে মারধর করেন। নিরমা মামার বাড়ি থেকে তিন দিন পর বাবার বাড়িতে আসেন। সেখানেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এখানে চার দিন থাকার পর ১৩ জুলাই নিরমা লালমনিরহাট শহরের পুটিমারীতে তাঁর খালার বাড়িতে যান। জয়দেবও সেই বাড়িতে যান। এখানে দুই দিন থাকার পর ১৫ জুলাই জয়দেব তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ১৭ জুলাই বিকেলে জয়দেব সেখানে গিয়ে রাত আটটার দিকে নিরমাকে নিয়ে সাইকেলে চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পরের দিন গতকাল চিনিপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ নিরমার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় নিরমার গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো ছিল, আর জয়দেব নিরমার ওপর পড়ে ছিলেন।
পুলিশ নিরমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আর জয়দেবকে হাসপাতালে পাঠায়।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আজমল হক বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ জয়দেবকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এ সময় তিনি কিছুটা অস্থির ছিলেন এবং অজ্ঞান ভাব দেখা যায়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে স্যালাইন, ব্যথার ওষুধ ও গ্যাসট্রিকের ওষুধ দিলে তিনি আধা ঘণ্টা পরই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন। তাঁর শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, জয়দেবের বাঁ হাতের তালুতে সামান্য আঁচড় ছিল।
হাসপাতালের মর্গের সামনে কথা হয় নিরমার বাবা নিমাই চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, মেয়েটা প্রেম করে বিয়ে করলেও দুই পরিবারই মেনে নেয়। কিন্তু তাঁর মেয়েকে জামাই প্রথমে মারধর, এরপর মেরেই ফেললেন। তিনি এ ঘটনায় বিচার চান।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় জয়দেব বর্মণকে আদালতের মাধ্যমে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tuesday, July 18, 2017

ইসির রোডম্যাপ আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার নীলনকশা : মির্জা ফখরুল


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত রোডম্যাপ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার নীলনকশা বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই রোডম্যাপ জাতির আশা আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে। পুরনো কায়দায় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেছে।
দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতেই এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন। 
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার সুরাহা হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রোডম্যাপ কোনো সুফল দেবে না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্যে রোডম্যাপ দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটা প্রমাণিত হয়েছে সেই ইচ্ছাও তাদের নেই। তিনি জনগণকে আরো হতাশ করেছেন এই কথা বলে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। তার এই বক্তব্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলনই ঘটেছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব- এমন বক্তব্য দিয়ে সিইসি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন বলেন, এসব দেখার দায়িত্ব তাদের নেই তখন সহজেই বোঝা যায় এই নির্বাচন কমিশন আরেকটি রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশনে পরিণত হতে চলেছে। সুতরাং এ ধারণা স্পষ্ট হয়েছে যে এই নির্বাচন কমিশন সবার কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যোগ্য নয়। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি প্রস্তাব শিগগিরই পেশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
দেশের সবাই বিশ্বাস করে এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নজিরবিহীন নির্বাচনী তামাশা করে ক্ষমতায় এসেছে। তথাকথিত গঠিত সংসদে কোনো বিরোধীদল নেই। তাদের নৈতিক ভিত্তি নেই; তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। 
বর্তমান নির্বাচন কমিশন আরেকটি ‘রকিবমার্কা’ কমিশনে পরিণত হতে চলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে না তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। 
ইসির সংলাপে বিএনপি সাড়া দিবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপে সারা দেয়া অনেক পরের কথা। বিএনপির প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন বাস্তবতা উপলব্ধি করে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিবেন। সরকারের কাছে আমরা আবারো বলছি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটা জায়গায় পৌঁছানোর জন্য।
সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন সম্ভব নয় ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক ইস্যু, এটাকে রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হয়। এখানে সংবিধানের কথা বলে লাভ নেই। জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। সংবিধান জনস্বার্থের উর্দ্ধে হতে পারে না।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সরকারের কি ভূমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থাকে। নির্বাচনকালীন সরকার যদি দলীয় সরকার থাকে তাহলে ইসি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে না। 
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যবস্থা না করে যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে আমরা মনে করি, এতেই ষড়যন্ত্র আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন

স্বামীর জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন শাবানা




যশোরের কেশবপুরে (যশোর-৬ আসন) স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন ঢাকাই ছবির জীবন্ত কিংবদন্তি শাবানা। ওয়াহিদ সাদিক আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে তিনি এলাকায় প্রচারণাও শুরু করেছেন। কিছুদিন আগে শাবানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে স্বামীর মনোনয়নের ব্যাপারে কথাও বলেছেন বলেও জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার কেশবপুরের বড়েঙ্গা গ্রামে নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত একটি মসজিদ ও কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন শাবানা ও তার স্বামী। এসময় সেখানে শাবানা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং সবার কাছে দোয়া চান। স্থানীয় লোকজনের সাথেও তিনি কথা বলেন এবং স্বামীর জন্য নৌকায় ভোট চান। এসময় শাবানার সাথে তার স্বামী ওহাহিদ সাদিক, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ ছিলেন।  

বাংলা সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তী শাবানা ১৯৯৭ সালে অভিনয় ছেড়ে দেন। পরে সন্তানদের সঙ্গ পেতে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্টে পাড়ি জমান তিনি। গত মে মাসে তিনি দেশে এসেছেন এবং আবারও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন।  
বিডি-প্রতিদিন/১৮ জুলাই, ২০১৭/মাহবুব

ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী


ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
ফাইল ছবি
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আগামী ২৩-২৪ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ৬ষ্ঠ ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস সম্মেলনে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।  
শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তিগত ক্যাটেগরিতে তিনি এ পুরস্কার পাচ্ছেন। এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।  
বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা এবং সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনে অবদান রাখতে সক্ষম ব্যক্তিদের এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ড হিসেবে একটি ট্রফি ও সাইটেশন প্রদান করা হবে।
ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেসের অ্যাওয়ার্ডস্ ও একাডেমিক কমিটির চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড স্মিথ বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো পত্রে বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে আপনার নেতৃত্ব ও অবদান সুপরিচিত। এক্ষেত্রে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ও আইকনিক ব্যক্তি। ’ 
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীকে তিনি চিন্তাবিদ, কর্মী এবং পরিবর্তনে বিশ্বাসী একজন রোল মডেল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ অ্যাওয়ার্ডের লক্ষ্য হচ্ছে, সেরাদের মধ্যে সেরা নির্বাচন করা।
ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস-২০১৭ সম্মেলনে নাহিদকে বক্তব্য প্রদান এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন।
বিডি প্রতিদিন/১৮ জুলাই ২০১৭/এনায়েত করিম

বরফের নিচে মিলল ৭৫ বছর ধরে নিখোঁজ দম্পতির মৃতদেহ


বরফের নিচে মিলল ৭৫ বছর ধরে নিখোঁজ দম্পতির মৃতদেহ
সুইজারল্যান্ডে একটি ক্রমশ ছোট হতে থাকা হিমশৈলের নিচে দুটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। জানা গেছে এই দুইজন হচ্ছেন ৭৫ বছর আগে ১৯৪২ সালে নিখোঁজ হওয়া মার্সেলিন ও ফ্রান্সিন দুমোলিন দম্পতি।
 
১৯৪২ সালে আল্পস পর্বতে নিজেদের গবাদি পশুর খোঁজ নিতে গিয়ে নিখোঁজ হন এই দম্পতি। তাদের সাত সন্তান ছিল। এদের মধ্যে সবার ছোট মার্সেলিন উদ্রি দুমোলিনের বয়স ৭৯ বছর। বাবা-মার মৃতদেহর খোঁজ পাওয়ায় গভীর প্রশান্তি পেয়েছেন কারণ তিনি এখন তাদের প্রাপ্য শেষকৃত্যটি করতে পারবেন। তিনি বলেন, আমাদের সারাজীবন তাদের খোঁজ করে শেষ হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।
 
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে স্যানফ্লেউরন হিমশৈলে একজন স্কি লিফট শ্রমিক এই দুই জনের মৃতদেহর সন্ধান পান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বার্নহার্ড শ্যানেন বলেন, ওই কর্মী আমাদের বলে বরফের নিচে সে কিছু ব্যাকপ্যাক, টিন ও গ্লাসের বোতল এবং নারী ও পুরুষের জুতার পাশাপাশি একজনের শরীরের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। যে পোশাক তারা পরিধান করে আছেন তাতে মনে হচ্ছে ৭০-৮০ বছর ধরে তারা সেখানে পড়ে বাছে।
 
উদ্রি দুমোলিন বলেন, আমার মা শিক্ষক ছিলেন এবং পেশায় জুতার কারিগর বাবার সঙ্গে পাহাড়ে যেতেন না। কারণ সাত সন্তানের জননী তার যৌবনের বেশিরভাগ সময় গর্ভবতীই ছিলেন। মা বাবা নিখোঁজ হওয়ার পরে তারা বিভিন্ন পরিবারে চলে যান এবং কারো সঙ্গে কারো যোগাযোগ নেই। বিবিসি।