Search This Blog

Featured Post

রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে যেভাবে...

ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরেছে জাতীয় রাজস...

Powered by Blogger.

BTemplates.com

Tuesday, July 18, 2017

ইসির রোডম্যাপ আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার নীলনকশা : মির্জা ফখরুল


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত রোডম্যাপ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার নীলনকশা বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই রোডম্যাপ জাতির আশা আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে। পুরনো কায়দায় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেছে।
দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতেই এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন। 
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার সুরাহা হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রোডম্যাপ কোনো সুফল দেবে না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্যে রোডম্যাপ দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটা প্রমাণিত হয়েছে সেই ইচ্ছাও তাদের নেই। তিনি জনগণকে আরো হতাশ করেছেন এই কথা বলে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। তার এই বক্তব্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলনই ঘটেছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব- এমন বক্তব্য দিয়ে সিইসি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন বলেন, এসব দেখার দায়িত্ব তাদের নেই তখন সহজেই বোঝা যায় এই নির্বাচন কমিশন আরেকটি রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশনে পরিণত হতে চলেছে। সুতরাং এ ধারণা স্পষ্ট হয়েছে যে এই নির্বাচন কমিশন সবার কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যোগ্য নয়। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি প্রস্তাব শিগগিরই পেশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
দেশের সবাই বিশ্বাস করে এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নজিরবিহীন নির্বাচনী তামাশা করে ক্ষমতায় এসেছে। তথাকথিত গঠিত সংসদে কোনো বিরোধীদল নেই। তাদের নৈতিক ভিত্তি নেই; তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। 
বর্তমান নির্বাচন কমিশন আরেকটি ‘রকিবমার্কা’ কমিশনে পরিণত হতে চলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে না তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। 
ইসির সংলাপে বিএনপি সাড়া দিবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপে সারা দেয়া অনেক পরের কথা। বিএনপির প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন বাস্তবতা উপলব্ধি করে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিবেন। সরকারের কাছে আমরা আবারো বলছি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটা জায়গায় পৌঁছানোর জন্য।
সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন সম্ভব নয় ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক ইস্যু, এটাকে রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হয়। এখানে সংবিধানের কথা বলে লাভ নেই। জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। সংবিধান জনস্বার্থের উর্দ্ধে হতে পারে না।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সরকারের কি ভূমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থাকে। নির্বাচনকালীন সরকার যদি দলীয় সরকার থাকে তাহলে ইসি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে না। 
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যবস্থা না করে যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে আমরা মনে করি, এতেই ষড়যন্ত্র আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন

0 comments:

Post a Comment