ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সংসদে বক্তব্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সন্মেলন
বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় নিয়ে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের রাখা বক্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুটি অংশ।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ অভিহিত করে তা- প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ সমিতির সদস্য বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে এ সংবাদ সম্মেলনের পরপর একই স্থানে সহ-সভাপতি অজি উল্লাহর নেতৃত্বে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা সংসদের ওই আলোচনাকে গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন।
এ ছাড়া সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন তারা।
প্রসঙ্গত, বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় নিয়ে রোববার সংসদে বিচার বিভাগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।
প্রধান বিচারপতি এবং এই মামলার অ্যামিকাস কিউরিদের নিয়েও সমালোচনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বলেন, 'সংসদ সদস্যরা সংসদ পরিচালনার বিধি-বিধান সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন। যে ব্যক্তি তার সম্পর্কে সমালোচনার জবাব দিতে পারবে না, অর্থাৎ সংসদে উপস্থিত নেই, তার সম্পর্কে সংসদে কোনো আলোচনা করা যায় না।অথচ সংসদ সদস্যরা দুজন প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন, যা সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল।
এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সম্পর্কে সংসদে আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করতে স্পিকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এসে সমিতির সহ-সভাপতি অজি উল্লাহ বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন ছিল রাজনৈতিক আদর্শগত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের কোনো স্বার্থ রক্ষা হয়নি, হবেও না। বরং তা বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে জনগণের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করবে।
সরকার সমর্থক আইনজীবীদের এই নেতা বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর মামলা চলাকালে এই সংশোধনীর বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সংসদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেনি। রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা কখনোই বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়। আর সংসদের ভেতরে আলোচিত কোনো বিষয় নিয়ে সমিতির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা রাজনেতিক উদ্দেশ্য হাসিল ছাড়া আর কিছুই নয়।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদকসহ আটটি পদে বিএনপি সমর্থকরা রয়েছেন। ছয়টি পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।

0 comments:
Post a Comment