Search This Blog

Featured Post

রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে যেভাবে...

ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরেছে জাতীয় রাজস...

Powered by Blogger.

BTemplates.com

Wednesday, July 26, 2017

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নেও এত দেরি?



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার চিঠিগত বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম দিবসের অনুষ্ঠানে তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান এবং চাকরির জন্য আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেন।

বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এই তিনজনের চাকরির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এক বছর চার মাস হতে চলল, সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নেই।

তিনজনের মধ্যে একজন ঝিনাইদহের বিপ্লব কুমারের প্রশ্ন, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন, তারপরও তা মানতে এত দেরি হবে? এই নির্দেশের বাস্তবায়ন হতে কেন এত সময় লাগবে?

বিপ্লব জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেওয়ার আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন। সেখানে পরীক্ষা দেন। কিন্তু পাস করতে পারেননি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আর কোনো কিছুর জন্য ডাক পাননি।

বিপ্লব কথা বলেন কিছুটা অস্পষ্টভাবে। হাতে এবং পায়ে সমস্যা থাকলেও একাই চলাচল করতে পারেন।

বিপ্লবসহ তিনজনের মধ্যে দুজন সেরিব্রাল পালসি এবং একজন বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী।

তিনজনের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য দুজন এখন পর্যন্ত জানেন না তাঁদের ভাগ্যে কী আছে। যিনি নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েছিলেন, তিনি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি এবং তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর চাকরির আবেদনপত্রে বিপ্লব কুমার লিখেছেন, সেরিব্রাল পালসির কারণে স্নায়ু বিকাশে অনেক বাধা থাকলেও তিনি সব বাধা অতিক্রম করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেছেন। একটি চাকরির জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও চাকরি পাননি। তাঁর বাবা কৃষক। পরিবারও প্রতিবন্ধী বলে অবহেলা করে। সামাজিক অবহেলা ও আর্থিক সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী।
বিপ্লব প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনপত্রে লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ শেষ করার পর প্রতিবন্ধিতার কারণে চাকরি না পেলে আমাকে ভিক্ষাবৃত্তি করে খেতে হবে।’
বিপ্লব কুমার রাজধানীতে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী হোস্টেলে থাকছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব সবার কাছে ঘুরছি। সবাই শুধু বলেন, হবে। কিন্তু কবে হবে? আমার তো আর দিন চলে না।’
নূর এলাহী কথা বলতে পারেন না। তাঁর বড় বোন নিলুফার ইয়াসমিন জানান, নূর এলাহি ডিগ্রি পড়ছেন। বাড়ি টেকনাফে। এখন থাকছেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের হোস্টেলে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।
নিলুফার ইয়াসমিন ভাইয়ের পক্ষ থেকে বলেন, তাঁর ভাইও একটি চাকরির আশায় বসে আছেন। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন, তার ফলাফল পাবেনই। তবে সময়টা একটু বেশি লাগছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএস-২ নমিতা হালদার এক চিঠিতে এই তিনজনের চাকরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনজনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। গত বছরের ১২ মে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তা পাঠানো হয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর। তারপর থেকে বিষয়টিতে আর কোনো অগ্রগতি জানতে পারেননি বলে জানালেন ভুক্তভোগী দুজন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তবে সরকারি চাকরি পেতে হলে কিছু নিয়মনীতি অবশ্যই মানতে হবে। অধিদপ্তর চাইলেই কাউকে চাকরি দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষে বোর্ডের অনুমতি নিয়ে চাকরি দেওয়াটা তুলনামূলকভাবে সহজ।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জানালেন, তাঁরা আশায় পথ চেয়ে আছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন দ্রুত হবে এবং চাকরি নামক সোনার হরিণটির দেখা পাবেন তাঁরা।

0 comments:

Post a Comment