Search This Blog

Featured Post

রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে যেভাবে...

ভ্যাট আইন স্থগিত করায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হওয়ার কথা, তা সংস্থানের একটি পরিকল্পনা সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরেছে জাতীয় রাজস...

Powered by Blogger.

BTemplates.com

Friday, July 14, 2017

সাকিবের সঙ্গে মহাপ্রাচীরে




চীনের মহাপ্রাচীরে স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে সাকিব আল হাসান। ছবি: লেখকপৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি চীনের মহাপ্রাচীর। ১ জুলাই সেখানে দেখা গেল কয়েকজন বাংলাদেশি ছবি তুলছেন, সেলফি তুলছেন। আনন্দে আত্মহারা সবাই। আর হবেনই বা না কেন? গ্রেট ওয়ালে যে তাঁদের সঙ্গে আছেন আমাদের গ্রেট ক্রিকেটার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শিশির এবং মেয়ে আলাইনা। হুয়াওয়ের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে চীন ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের কয়েকজন ভক্ত। দলের সঙ্গে ছিলেন আলোকচিত্রী প্রীত রেজা। এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে তিনিই লিখেছেন এই ভ্রমণবৃত্তান্ত।
কেবল কারে আমার সামনের দুই আসনে মেয়ে আলাইনাকে নিয়ে বসে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও তাঁর স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। ১ জুলাই আমরা চলেছি মহাপ্রাচীর দেখতে। আমার বেশ উচ্চতাভীতি আছে। কেব্ল কার যখন উঠছিল, ভীষণ ভয় হতে থাকল। এদিকে দেখি সাকিব নানা কথা বলে শিশিরকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। শিশিরও কম নন। দুজন ভীষণ মজা করলেন কেব্ল কারে বসেই। তাঁদের এসব কাণ্ড দেখতে দেখতেই ভয়ডর সব চলে গেল।
হোটেল থেকে মহাপ্রাচীরে যাওয়ার দূরত্ব প্রায় দুই–আড়াই ঘণ্টার। সাকিব ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমিও একই গাড়িতে উঠেছি। মহাপ্রাচীর যাত্রার সময়টা আমাদের কাটল কথাবার্তায়। চীন সফরের শুরু থেকেই সাকিবকে নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। এই গাড়িতে বসে সেই জানা যেন আরও বাড়ল। সাকিবের রসিকতা করার ক্ষমতা দেখে অবাক হলাম। এভাবেই একসময় চলে এলাম মহাপ্রাচীরে। এই প্রাচীর কতটা যে বিশাল ও বিপুল, তা ছবি দেখে বোঝা কঠিন। বিস্ময় জাগে ক্ষণে ক্ষণে।
সাকিব–শিশিরস্মরণীয় চীনযাত্রা
এবারের এই চীন সফর বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে সারা জীবন। কেননা, গ্রেট ওয়াল দেখা হলো আমাদের গ্রেট ক্রিকেটারের সঙ্গে। তাঁকে পাওয়া গেল পারিবারিক আবহে।
চীনে এই ভ্রমণের কারণটা বলি। মুঠোফোন নির্মাতা ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সাকিবভক্তদের জন্য। পুরস্কার ছিল সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বিজয়ীদের চীন ভ্রমণ। এই ভ্রমণের প্রামাণ্য ভিডিও নির্মাণের কাজটা করতে হবে আমাদের। সে কারণেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে এই চীন ভ্রমণ। সাকিবের সঙ্গী তাঁর স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির এবং কন্যা আলাইনা হাসান অব্রি।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমরা চীনের বিমানে উঠেছিলাম ২৯ জুন দুপুরে। সাকিব আল হাসানের সফরসঙ্গী হচ্ছি, তাই ভেতরে একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। তাঁকে নতুনভাবে জানার সুযোগ হবে এসবই ভাবছিলাম। গভীর রাতে বেইজিং পৌঁছালাম। হোটেল রুম থেকে অলিম্পিক মাঠ দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল! ভীষণ সুন্দর দৃশ্য। মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
৩০ জুন আমরা হুয়াওয়ে এক্সিকিউটিভ ব্রিফিং সেন্টারে গেলাম। সাকিব আল হাসানও সেখানে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরাও রয়েছেন সঙ্গে। বিজয়ী পাঁচজন মাইনুল হোসেন, ফারহান আনজুম, রাশেদুজ্জামান, ফারদিন আরাফাত ও রাইয়ান কবিরের সঙ্গে চা-আড্ডায় মশগুল সাকিব। ভক্তদের অভিব্যক্তি দেখার মতো। কখনো সাকিবের সঙ্গে হাসছেন তাঁরা, কখনো বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। হোটেলে ফিরছি আমরা—সাকিব আল হাসান, নাফিজ আহমেদ (সাকিবের এজেন্ট), হুয়াওয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তা মাশরুর হাসান। তখনো জমে ওঠে আড্ডা। প্রিয় ম্যাচ, প্রিয় উইকেট—এসব নিয়ে আমাদের কথা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে সাকিবের নতুন কেনা ক্যামেরা নিয়ে! সাকিবকন্যা আলাইনার প্রিয় খেলা নিয়ে!
১ জুলাই। নাশতার টেবিলের আড্ডা জমতে শুরু করার আগেই কেটির আওয়াজ, সব মজা এখানে করলে হবে? গ্রেট ওয়ালের জন্য কিছু রাখো। হুয়াওয়ের আঞ্চলিক প্রধান কেটি ট্যান। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের দায়িত্বে আছেন। খুব ভালো মনের মানুষ—আমাদের কারও কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে তাঁর সজাগ দৃষ্টি। এরপরই আমরা রওনা দিয়েছিলাম চীনের মহাপ্রাচীরের উদ্দেশে। মহাপ্রাচীর দেখার সেই কথা লেখার শুরুতেই বলেছি।
আলাইনা খেলছে আপন খেয়ালেশেনজেনে
২ জুলাই। বেইজিং থেকে শেনজেন যাব আমরা। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ বিকেল-সন্ধ্যা শহর ঘুরে দেখব, শিডিউল ছাড়া। বিধি বাম! ফ্লাইট ডিলে! জাপান-কোরিয়ায় একটি টাইফুন হওয়ার আশঙ্কা আছে, চীনেও তার প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। লাউঞ্জে না বসে কিডস প্লে জোনেই সাকিব-শিশির মুগ্ধ হয়ে আলাইনার কাণ্ড দেখছেন। অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে ভাব হয়ে গেল তার, অল্প সময়ের মধ্যে।
ফ্লাইট দেরি হওয়ায় একটাই সুবিধা হলো, সাকিবকে আনঅফিশিয়ালি পাওয়া গেল, আড্ডা জমছে ভীষণ। সাকিবের সঙ্গে আড্ডা মানে মাঠ, মাঠের বাইরে কিছুই বাদ যাবে না! ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শুনছিলাম। আজকালের তরুণদের নিয়ে তাঁর যে এত ভাবনা, জানা ছিল না আমার। দেশ নিয়ে সাকিবের ভাবনা আমাকে নতুন করে তাঁর ভক্ত বানাল।
সাকিব লেখককে জার্সি উপহার দিলেনসেরা অভিজ্ঞতা আর জার্সি, ব্যাট
সাকিবসহ ৩ জুলাই আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো হুয়াওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। বিজয়ী সাকিবভক্তদের অভিজ্ঞতা শুনলেন হুয়াওয়ের নির্বাহী কর্মকর্তারা। সাকিবকে বলা হলো এই ভক্তদের সঙ্গে ‘সেরা’ অভিজ্ঞতা নির্বাচন করতে। সাকিবের উত্তর, ‘ওরা সবাই আমার ভক্ত। সবাই আমার কাছে সমান! আমার পক্ষে সম্ভব না ওদের মধ্য থেকে একজনকে সেরা বাছাই করা! সবাইকে বিজয়ী ঘোষণা করে দিন।’
ও হ্যাঁ, আসল কথা বলাই হয়নি। সাকিবের একটি সাক্ষাৎকার ধারণ করতে শব্দরোধী (সাউন্ডপ্রুফ) ঘরে গেলাম আমরা কয়েকজন। সাক্ষাৎকার শেষে সাকিব মাশরুর হাসানকে একটি জার্সি উপহার দিলেন।
আমাকে অবাক করে দিয়ে নাফিজ ভাই বললেন, ‘সাকিব তোমাকে ডাকছে।’ গিয়ে দেখি সাকিব আল হাসান একটি জার্সি আমার দিকে দিচ্ছেন। বললাম, ‘কাকে দেব এটা?’ সাকিব বললেন, ‘ওই যে প্রীত রেজা নামের এক ভদ্রলোক আছে তাকে!’ সাকিবকে জড়িয়ে ধরে কিছুই বলতে পারলাম না!
সাকিবের সইসহ জার্সি পেয়ে আমি আনন্দিত! উপহার কার না ভালো লাগে! কিন্তু সেটা যখন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে, তাঁর অফিশিয়াল জার্সি হয় অটোগ্রাফসহ, তখন তার অনুভূতি অবর্ণনীয়! সবকিছু কি লিখে বা ছবি তুলে বোঝানো সম্ভব?
সাকিবের সঙ্গে আনন্দের এক মুহুর্তে সফরসঙ্গীরাহোটেলে ফিরে ব্যাগ গোছাচ্ছি। নাফিজ ভাই বললেন, ‘দেখো তো এটা তোমার কি না?’ একটি ছোট শপিং ব্যাগ। খুলে তো আমি স্তব্ধ! একটি ছোট ব্যাট! তাতে আমার নাম উল্লেখ করে সাকিবের অটোগ্রাফ!
সাকিব আমাকে ঋণী করে দিলেন। জার্সি কিংবা ব্যাটের কথা বলছি না। বুড়ো হলে নাতি-নাতনিদের কাছে বুক ফুলিয়ে এই ভ্রমণের গল্প করতে পারব।
সুন্দর এক মুহূর্তে সাকিব পরিবারশিশিরের খিচুড়ির অপেক্ষায়
৩ জুলাই ছিল চীনে আমাদের শেষ রাত। সেই রাতে সাকিবের সৌজন্যে নৈশভোজের আয়োজন ছিল। সেই আয়োজনে সাকিব–শিশিরের সঙ্গে আমিসহ সাতজন ছিলাম। রেস্তোরাঁয় বসে শেনজেন শহর দেখার সে এক অপার সুযোগ। কী দুর্দান্ত সেই শহর।
সেই রাতে খাওয়া ও গল্পে বেশ ভালোই সময় কাটছিল। একসময় খাবার টেবিলে একটি পদ আসা না–আসা নিয়ে কথা শুরু হলো। শিশির একদিকে, আমরা অন্যদিকে। ধরা হলো বাজি। যদি সেই পদ পরিবেশন করা হয়, তাহলে শিশির আমাদের গরুর মাংস ও খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াবেন। শেষ পর্যন্ত সেদিন হেরেছিলেন শিশির। এখন অপেক্ষায় আছি শিশিরের খিচুড়ির দাওয়াতের!

0 comments:

Post a Comment